Featured

First blog post

This is the post excerpt.

Advertisements

This is your very first post. Click the Edit link to modify or delete it, or start a new post. If you like, use this post to tell readers why you started this blog and what you plan to do with it.

post

পীরের পাহাড়ের গল্প

গুরুদাসপুর ৷ ছোট্ট একটি গ্রাম্য স্টেশন ৷ রাজধানী থেকে প্রায় আড়াইশত কিঃমি দুরের এ গ্রাম্য স্টেশন থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার ছবির মত সুন্দর একটি গ্রাম পীরের পাহাড় ৷ স্টেশন থেকে আঁকাবাঁকা পাহাড়ী রাস্তা পেড়িয়ে পৌছাতে হয় পীরের পাহাড় গ্রামে ৷ আঁকাবাঁকা রাস্তার দু পাশে স্তরে স্তরে সাজানো নয়ন জুড়ানো চা-বাগান ৷ পথের পাশ দিয়ে কলকল করে বয়ে চলেছে একটি পাহাড়ী ছড়া ৷ ছবির মত সুন্দর পথ পেরিয়ে পৌছাতে হয় পীরের পাহাড় গ্রামে ৷ এই গ্রামের নামকরণের পেছনে রয়েছে একটি কিংবদন্তি ৷ শোনা যায় বহু বছর পূর্বে এই অঞ্চল যখন বুনো জঙ্গল আর পাহাড়ে ঘেরা ছিল তখন একজন কামেল ফকির এই পাহাড়ে বসবাস করতো যা ছিল আশপাশের সকলের অজানা ৷ আশপাশের গ্রামের লোকেরা এই পাহাড়ী এলাকায় তাদের গবাদিপশু চড়াইতে এসে  একদিন দেখতে পান সেই ফকিরের গুহায় বসবাসের দৃশ্য ৷ অল্প সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে ৷ দুর দুরান্ত থেকে লোকেরা আসতে থাকে ফকিরের কাছে দোয়া নিতে ৷ ফকিরের কিছু ভক্ত স্হায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এখানে ৷ কালে কালে রুপ নেয় গ্রামের ৷ পরিচিতি পায় পীরের পাহাড় গ্রাম হিসাবে ৷ ব্রিটিশ আমলে এই পাহাড়ী অঞ্চলের মধ্য দিয়ে রেল লাইন স্থাপন করা হলে আস্তে আস্তে এলাকায় জন বসতি বাড়তে থাকে ৷ পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত আর উপযুক্ত পরিবেশ হওয়ায় এই এলাকায় চা চাষ শুরু হয়৷ চা চাষের গোড়াপত্তন করেন নবাব বাহাদুর লতিফ চৌধুরী ৷চা-বাগান দেখাশোনার জন্য তিনি একটি বাংলো নির্মান করেন এই পীরের পাহাড়ে ৷ কয়েক প্রজন্ম ধরে তাঁরা তাদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন এখন ও ৷ বর্তমানে এই বিশাল চা-বাগানের মালিক চৌধুরী সরফুদ্দিন ৷ যদিও তিনি এখন আর এখানে বসবাস করেন না ৷ সভ্যতার এই আধুনিক যুগে এই অঁজ পাড়া গায়ে উনাদের মত লোকেরা থাকতে পারেন না ৷ এখানে পাকা রাস্তা নেই ,বিদ্যুৎ নেই ,উন্নত স্কুল ,কলেজ বা হাসপাতাল নেই আছে অপার সৌন্দর্য্যে ঘেরা মায়াময় পরিবেশ আর ভাল লাগার হাতছানি এবং অবহেলিত চা শ্রমিকদের জীর্ণ কুটির ও জীবন যুদ্ধ  ৷ বর্তমান মালিক চৌধুরী সরফুদ্দিন সাহেবের একমাত্র কন্যা রোকেয়া জন্ম নিয়েছিল ঢাকায় আর তার বেড়ে ওঠা কানাডায় ৷ এ বছরে সে দেশে এসেছে ৷ আর বাবার কাছে বায়না ধরেছে গ্রামে যাবার ৷ প্রথম দিকে তার বাবা তাকে গ্রাম আনতে রাজি না হলেও পরে সন্মতি দেন ৷ নিদিষ্ট দিনে ট্রেনের এসি কেবিনে যাত্রা শুরু করেন রোকেয়া চৌধুরী সঙ্গী তার একমাত্র খানসামা সালমা ৷ তারা যখন গুরুদাসপুর স্টেশনে পৌঁছালো তখন বেলা গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেছে ৷ স্টেশনে আগেই অপেক্ষা করছিল চা-বাগানের ম্যানেজার (চা শ্রমিকদের ভাষায় মেজ বাবু) অফিসের জিপ নিয়ে  ড্রাইভার শান্তিলাল সহ অপেক্ষা করছিলেন ৷ ম্যানেজার মধ্য বয়সী বাঙালী আর ড্রাইভারের বয়স্ক ভাষায় অসমীয় টান ৷ প্রাথমিক কুশল বিনিময় পর্ব শেষ করে তারা রওনা দিলেন বাংলোর দিকে ৷ রোকেয়া চৌধুরীর বয়স ২৪ | এ বছরে গ্রাজুয়েশন শেষ করে বড়দিনের ছুটিতে দেশে বেড়াতে এসেছে ৷ অনিন্দ্য সুন্দর তার মুখশ্রী ঠিক যেন টাইটানিক সিনেমার রোজ এর মত ৷ প্রাণ উচ্ছল আর চটপটে ৷ পড়ন্ত বিকেলে আঁকাবাঁকা পাহাড়ী পথে শাঁই শাঁই করে ছুটে চলেছে জিপ ৷ অসাধারণ সেই দৃশ্য দেখে অবাক হচ্ছে রোকেয়া চৌধুরী ৷
রোকেয়াদের বহন করা জীপ যখন বাংলোর সামনে এসে থামলো তখন প্রায় সন্ধা হয়ে গেছে ৷পাহাড়ী এলাকায় সন্ধা নামে দ্রুত ৷সুর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়লেই অন্ধকার নেমে আসে ৷ বেশ বড় কটি পাহাড়ের ওপর কাঠের তৈরী মাঝারি সাইজের ছিমছাম বাংলো ৷ সামনে লম্বা বারান্দা প্রতিটি কক্ষের  পেছনে ছোট্ট বেলকনি ৷ ছোট্ট বেতের টেবিল ও চেয়ার ৷ এটার্সড বার্থরুম ৷ ঘরের মধ্যে একটি করে খাট ৷ তিন জন বসার মত ছোট বেতের সোফা ও টি টেবিল ৷ বেতের তৈরী আলনা ৷ দেওয়ালে হরিণের শিং ও বাঘের চামড়া ঝুলানো ৷ দামী দামী তৈল চিত্র ঝুলছে ৷ সব জায়গায় অভিজাত্যের ছাপ ৷ এই বাংলাতে না আসলে যেন রোকেয়া জানতেই পারতো না তাদের পুর্ব পুরুষদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও রুচি | হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে বেলকনিতে বসল রোকেয়া চৌধুরী ৷ তরুণী বয়সী একটি মেয়ে চা নাস্তা নিয়ে এলো ৷ কড়া লিকারের ধুমায়িত চা পান করছে রোকেয়া ৷ বাইরে জমাট বাধা গাঢ় কালো অন্ধকার ৷ কার্তিকের হালকা ঠান্ডা বাতাস, নিস্তদ্ধতার জাল ছিড়ে ঝিঁঝিঁ পোকার অবিরত ডাক, জোনাকি পোকার মিটমিটি আলো এ যেন অন্য পরিবেশ ৷ একটু পরে আসেন চা বাগানের ম্যানেজার৷ কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা জেনে নিয়ে জানালো,জিপের ড্রাইভার এখন থেকে বাংলোতে থাকবে ,বাংলোয় একজন রান্না করার জন্য পাঁচক,একজন তরুণী খানসামা এবং যে কোন প্রয়োজনের জন্য একজন মাঝ বয়সি ভৃত্য থাকবে ৷ তারপর ও যদি কোন প্রয়োজন হয় তাকে খবর দিলে দৌড়ে এসে হাজির হবেন ৷ সারাদিন ভ্রমনের ক্লান্তিতে ভাল লাগছে না ৷ তারাতারি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো রোকেয়া ৷ ঘুম থেকে যখন উঠলো তখন প্রায় আটটা বেজে গেছে ৷ ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে এসে নাস্তা শেষ করে রোকেয়া ৷ তারপর নিজ সঙ্গে আসা খানসামাকে সাথে নিয়ে বাংলোর চারপাশ ভালভাবে  ঘুরে দেখে ৷ নানান রংয়ের বর্ণের জাতের ও গন্ধের ফুলগাছ স্তরে স্তরে সাজানো ৷বাংলোতে প্রকৃতির ছোয়া রাখতে কংক্রিটের ঢালাই এর পরিবর্তে আশপাশে ছিটানো রয়েছে ছোট বড় নুড়ি পাথর ৷ বাংলো থেকে সামান্য দুরে সড়ক ও পাহাড়ী ছড়া ৷ চারিদিকে যতদুর দেখা যায় শুধু স্তরে স্তরে সাজানো সবুজ চা গাছ ৷ পাহাড়ী ছড়ার কলকল পানি বয়ে যাওয়ার শব্দ রাতে বাংলোয় শুয়ে পাওয়া যায় ৷ দুপুর পর্যন্ত আশপাশ ঘুরে দেখে বিকেলে জিপ নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে গেল রোকেয়া ৷ সঙ্গে অসমীয় ড্রাইভার আর প্রিয় খানসামা ৷

সেদিনের বিকেলটা বেশ খোশ মেজাজে কাটালো রোকেয়া ৷ সবুজে ঘেরা চা-বাগান , কলকল করে বয়ে চলা পাহাড়ী ছড়ার পাশ দিয়ে আঁকাবাঁকা পথ,পথের ধারে রং বেরংয়ের বুনো ভুল ,ফুলের উপর রঙিন ডানার হরেক প্রজাপতি খেলা | উচু নিচু পাহাড়ী পথ ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছে জীপ ৷ সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পূর্বে বাংলোয় ফেরার পথ ধরলো জিপ ৷ ফেরার পথ ড্রাইভার বলছে, “ছোট্ মেম ছাব ৷ কাল তো বিছুদ বার ৷ কাল বিকালে হামলোক দরগামে যাবো্ ৷ বাবা দরবারে গেলে আপনার বহুত্ ভাল লাইগবে ৷” 
“দরগা ?” প্রশ্ন করে রোকেয়া ৷ 
“হা মেম ছাব দরগামে ৷ এক শরীফ আদমী পীরের মোকাম | আপনার বহুত্ ভাল লাগবে |” জবাব দেয় ড্রাইভার ৷ ” ছেই পীরের লামের কারণেই তো এই এলাকার লাম পীরের পাহাড় মেম সাব” যোগ করে ড্রাইভার ৷
রোকেয়া বিরক্তি মিশ্রিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ড্রাইভারের দিকে ৷ কানাডার একটি অভিজাত এলাকায় বড় হয়েছে রোকেয়া ৷ রোগ -শোক , দুঃখ-জ্বরা, ধর্ম এগুলোর ছোয়া ছাড়াই বেড়ে উঠেছে সে ৷ ধর্ম কর্মের উপর তার কোন টান নেই ৷ সে আধুনিক | তার কাছে সব কিছুর সমাধান বিজ্ঞানে ৷ ধর্ম তার কাছে কোন বিষয় না ৷ তাই ড্রাইভারের কথায় কিছুটা বিরক্ত হয় ৷
“মেম ছাব আমার্ কথায় লাগ কললেন নাকি ?” প্রশ্ন করে ড্রাইভার  | “আপনার ভালো না লাগলে থাক্ ছেসব ” যোগ করলো ড্রাইভার ৷
বিরক্ত হয়েছে রোকেয়া এ কথা সত্য তবে এই এলাকার নামটি যে ওই ব্যক্তির নামানুসারে জেনে রোকেয়া বেশ অবাক হয়েছে ৷ কিছুটা আগ্রহী ও বটে | তাই লোকটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চায় রোকেয়া ৷ ড্রাইভার কে প্রশ্ন করে ” আচ্ছা ওই পীর সম্পর্কে তুমি যা জানো সব আমাকে বল ৷”
ড্রাইভার এই অঞ্চলের ইতিহাসটি বিস্তারিত জানালো ৷ পীরের বিভিন্ন কেরামতি সম্পর্কে যে সব গল্প প্রচলিত আছে সব বলল ৷ সব শুনে রোকেয়ার মন বেশ কৌতুহলী হয়ে উঠল ৷ সে জানতে চায় আসল সত্য ও তত্ব ৷ কতটুকু সত্য এই প্রচলিত গল্প গুলো ৷ রোকেয়া প্রশ্ন করে “এই পীরের বংশধর  কেউ থাকে এখানে ?”
ড্রাইভার রোকেয়ার আগ্রহ দেখে খুশি হয় ৷ তবে তার কেউ নেই একথাও জানিয়ে দেয় ৷ পীর সাহেব ছিলেন সংসার ত্যাগী ৷ স্ত্রী সন্তান আর দুনিয়ার সম্পদের মোহ তাকে গ্রাস করতে পারে নি ৷
“তাহলে যে বললে দরগা ? সে দরগা দেখাশোনা  করে কে ?” প্রশ্ন করে রোকেয়া ৷ ড্রাইভার জানায় যখন এখানে লোকজনের বসবাস শুরু হয় তখন এক লোক পীরের কাছে বড় একটা উপকার পেয়ে তার শিষ্যত্ব গ্রহন করে ৷ তবে সে ছিল বিবাহিত ৷ পীর সাহেব তাকে স্বপরিবারে পীরের আস্তানার কাছে থাকার জন্য বলে ৷ তখন থেকেই পীরের সকল দেখাশোনার দায়িত্ব নেয় সেই শিষ্য
৷শিষ্য থেকে হয়ে যায় খাদেম ৷ সেই থেকে সে পরিবারের নাম হয়ে যায় খাদেম পরিবার ৷ পীর সাহেবের মৃত্যুর পর তারা তাঁর কবরটি সংরক্ষণ করে মাজার হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে এবং বংশ পরম্পরায় এই মাজারের খাদেম হিসাবে মাজারের যাবতীয় কাজ করে আসছে ৷ প্রতি সপ্তাহের  বৃহস্পতিবার জিকিরের আসর আর প্রত্যেক বছরের বাংলা ফাল্গুন মাসের ৭,৮,৯ তারিখে পালন করে বার্ষিক ওরস ৷ শোনা যায় ফাল্গুন মাসের আট তারিখ পীর সাহেবের মৃত্যু দিবসকে স্মরণ করে এই ওরস উদযাপন করা হয় ৷ বর্তমান মাজারের দায়িত্বে আছেন মাঝ বয়সী খাদেম রবিউল শাহ ৷ তিনি এখন এই মাজারের হর্তাকর্তা ৷ সব শুনে রোকেয়ার মনে বেশ আগ্রহ  জন্মে ৷ সে পরদিন মাজারে যাবার সিদ্ধান্ত নেয় ৷

শুভ্রতার অনামিশা

এবারের শরতে কোন কবিতা লিখিনি
মনের শুভ্র কাশবন হতাশার অমানিশায় ঘেরা
ক্ষণিকের তরে ফোটা ঘাসফুল
কাশরাশিতে মন ধবল করে লাভ কি ?

শরতের ফিরিস্তি যদি শুনতে চাও
শুনতে হবে একরাশ হতাশা
স্বাধীনতা বিকিয়ে দেওয়া আর
ক্ষমতার নগ্নতায় সামাজিক অবক্ষয়ের কথা ৷

চল্লিশ বছরেও পায়নি যা
দিয়েছি তা একদিনেই ৷
জল বিনে কাঁদছে মিনে
মরা তিস্তায় পড়ে ৷
ফেনীর জল বিলিয়ে দিলাম
মানবতার মিছে ছুতোয় ৷

আগুন জ্বলছে কাঁচা বাজারে
পিঁয়াজের কেজি শতে
দাদাদের হাটে ইলিশের ঘ্রাণ
আমরা খুশি পাঙ্গাসে ৷

উন্নয়নের জোয়ারে ব্যাংক
মিলছে ঘরে ঘরে ৷
ক্লাব গুলো ব্যাট প্যাড ভুলে
মেতে আছে রুলেট চিপে ৷

আর কি বলব ফিরিস্তি
বলতে গেলে হয় না শেষ
এই দেশে কি আছে রে ভাই
শুভ্রার একবিন্দু লেশ ?

অভিশাপ্ত আগ্রাসন


সবুজ পাহাড়ের পায়ে চুমু দিয়ে

হাজার বছরের বনভুমি উজার করে

তুমি গড়ে তুললে পুঁজির দালান

একে দিলে আধুনিক সভ্যতার পদচিহ্ন ৷


বিস্তীর্ণ গো চারণভূমি  আর উর্বর

তিন ফসলি জমিতে তৈরী করলে

” ইন্ডাস্টিয়াল গারবেজ এরিয়া “

অথচ এ আমাদের অসহনীয়

দুর্গন্ধময় ময়লার ভাগাড় ৷


আমি বাধা দিতে পারিনি

কারণ তোমার সাথে ছিল

সরকার বাহাদুর ছিল প্রশাসন

আর জনপ্রতিনিধির দল 

আর ছিল লোকাল গুন্ডা বাহিনী ৷


তোমরা স্বপ্ন দেখালে,

রঙিন চশমায় অ্যালকোহলের নেশায়

বুঁদ হয়ে বললে” আরে মিয়া

এলাকা হইবো সিঙ্গাপুর

বলদের মত খাটবা আর কত ?”


খেটে খাওয়া দরিদ্র চাষা আমরা

তোমাদের দেখানো স্বপ্নে স্বস্তি পেয়েছিলাম 

ভেবে ছিলাম ভাগ্য দেবতা এতদিনে

মুখ তুলেছেন মুটে মুজুরদের পানে ৷


তবে, আজ দেখি বিধাতার অট্টহাসি

খিক্ খিক্ করে হেসে বলে” মুটে মুজুরের স্বপ্ন দেখো

সিঙ্গাপুরের সাহেব হবে কামিন কুলিরা !”


এখন ভাবি কথা অতি সত্যি

কি করে দুঃস্বপ্ন দেখি ভাই

পা ফাটা চাষা মুজুর কুলি

সিঙ্গাপুরের সাহেব কেমন করে হবে ?


তবে, সিঙ্গাপুর হয়েছে দেশ সত্য

তাদের ঘরের সরিষার তৈলের জায়গায়

স্থান পেয়েছে ইতালীয় জলপাই তেল

সাহেব মেডামদের মাংসল অঙ্গের জন্য ৷


আমরা চাষা ভুষা মুজুর কুলি

আমাদের কি আর এসব সয়

আমাদের ঘরে আছে তিলের তৈল

সাহেব বাবুগিরি এসব আমাদের নয় ৷


দিয়েছো ফাঁকি,দিচ্ছো ফাঁকি দাও

মুটে কুলি কামিন মিলিবে যেদিন

সাম্রাজ্যবাদের পুজির দালান

বিচুর্ণ হয়ে ধুলায় লুটিবে সেদিন ৷

বায়েজিদ হোসেন

একালের ভুমিদাসেরা কি মুক্তি পাবে ?

ঘুম থেকে উঠে এক কাপ বেড টি দিয়ে শুরু হয় আজকের আধুনকি সমাজের দিন কিন্ত এই চা এর পেছনে যাদের অবদান কেমন আছে তারা? কেউ খোজ রাখে না এই চা শ্রমিকদের ৷ দাস প্রথা রোহিত হয়েছে বহু আগেই কিন্ত মধ্যযুগীয়  ভূমি দাসের মত চা-মালিকের বাগানের সাথে বাধা আছে এই চা শ্রমিকদের নিয়তি যুগের পর যুগ ৷নিজ দেশে প্রবাসী হয়ে রয়েছে চা শ্রমিকেরা ৷যুগের পর যুগ কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন৷ ২৬ ইঞ্চির বেশি  বাড়তে না দেওয়া চা গাছের মত চা শ্রমিকদের জীবন  আবদ্ধ আছে মালিকের দেওয়া ২২২ ফুট কুড়ে ঘরের মধ্যে ৷ চা শিল্প বাংলাদশেরে অন্যতম বৃহৎ শিল্প  ৷ জাতীয় অর্থনীতিতে  রয়েছে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান৷দেশ বিদেশে রয়েছে এ চায়ের ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং চাহিদা৷
অথচ মৌলভীবাজার সহ দেশের১৬৫ টি চা বাগানের শ্রমিকেরা কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন৷ব্রিটিশ আমল থেকে মৌলভীবাজারের ৯২ টি চা বাগানে বংশ পরম্পরায় জীবন কাটাচ্ছে কয়েক হাজার চা শ্রমিক৷মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এ শিল্পের উন্নয়নে কাজ করলেও জীবন যাত্রার মানের কোন উন্নতি হয়নি এ সব অবহেলতি শ্রমিকদের৷ কথা হয় নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক বেশ কয়েকজন চা শ্রমিকের সাথে জানা যায় তাদের করুন জীবন যাত্রার কাহিনী৷দৈনিক ৮৫ টাকা মজুরী আর সপ্তাহে ৩কেজি আটার রেশনে চলে চা শ্রমিকদের জীবন৷
জীবনের তাগিদে র্দীঘ দিন যাবৎ  মজুরী বৃদ্ধি ,ভুমি অধিকার ,বাসস্থান ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবী করে আসছে তারা কিন্ত বাস্তবায়নের অভাবে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে তারা ৷ সরকারী ভাবে তাদের আবাসস্থল নিজ নিজ নামে করে দেবর কথা থাকলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় চা শ্রমিকের রয়েছে ভিটে হীন এবং বাগান মালিকের দয়ায়৷
চিকিৎসা সেবা তো তাদের কাছে ডুমুরের ফুল৷ চা বাগান গুলিতে যে কয়েকটি ছোট ছোট হাসপাতাল রয়েছে সেখানেও রয়েছে ভাল ডাক্তার এবং প্রয়োজনীয় ঔষধের অভাব৷শিক্ষা ক্ষেত্রেও রয়েছে এরা বহু পিছিয়ে ৷ দু এক জনের সন্তান লেখাপড়া করলেও পাচ্ছে না চাকুরী৷
৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করে দেশ স্বাধীনে অংশ গ্রহন করলেও অনেকে পায়নি তার যোগ্য সন্মান৷ বর্তমান সরকাররে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দাবী তাঁর হস্তক্ষেপে যেন তারা নিজের নামে বাসস্থান টা  পায়৷
সকালে চিনি ছাড়া এক মগ চা এবং দুমুঠো চাল ভাজা খেয়ে শুরু হয় তাদের দিন৷ সারাদিনে হাড় ভাঙা খাটুনিতে কমপক্ষে ২৩ কেজি চা পাতা অথবা ২৫০ টি গাছ কাটা অথবা এক একর কীটনাশক ছিটালে তবেই ধরা হয় হাজিরা৷ দুপুরে একটু চা পাতার চাটনী অথবা মুড়ি চানাচুর জোটে ৷
চা শ্রমিকদের ২০ দফা দাবী লিখিত আকারে মালকি পক্ষরে কাছে জমা দিলেও কয়েক দফা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হলেও মালিক পক্ষের সময়ক্ষেপনের কারনে কোন সুফল পাওয়া যায়নি ৷বিভিন্ন সময়ে সরকারী ও এনজিও মাধ্যমে সহযোগীতা পাওয়া গেলেও তা খুবই সামান্য৷
বাংলাদশেরে চা বিশ্বের ২৫ টি দেশে রপ্তানী হয়৷ এই বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা র্অজনে যারা সরাসরি জড়িত তারা যেন একটু ভাল ভাবে বাঁচতে পারে এটাই সংশ্লষ্টি কর্তৃপক্ষের নিকট তাদের একমাত্র চাওয়া৷
লেখকঃ মোঃ বায়েজিদ হোসেন
সাংবাদিক ,মৌলভীবাজার

গোল্লায় যাক দেশ

পৈত্রিক সুত্রে মালিক তিনি
কোটি জনতার দেশ ৷
গদিতে বসে সেই মহাজন
ভাবতে ভাবতে শেষ ৷
দেশকে নিয়ে ব্যস্ত তিনি
নাইকো ঘুমের লেশ ৷
সেই চিন্তায় মোসাহেবরা
শুকিয়ে হচ্ছে শেষ ৷
টাকায় কেনা গোলাম তারা
এতেই আছে বেশ ৷
ভুল আসামী গারদ ঘরে
এভাবেই চলছে দেশ ৷
রাষ্ট্র নীতি সমাজ নীতি
নীতির নাইকো শেষ ৷
লাশ মিলছে নদী খালে
দুঃখের নেই লেশ ৷
পথে ঘাটে ধর্ষণ হয়
বিচার হয়না শেষ ৷
আমিতো ভাই ভালো আছি
এটাই তো বেশ৷
অত কিছু ভাববো কখন
গোল্লায় যাক দেশ ৷

(বায়েজিদ হোসেন )

প্রথম দেখা


বর্ষার বিকেলে এক পশলা বৃষ্টি হয়েছিল সেদিন ,
এক বছর পর ফিরে গিয়েছিলাম সেই কফি শপ,
মহসিন ভাইয়ের কফি শপ কত স্মৃতির আতুর ঘর,
জানালার পাশের টেবিলটাতে বসে স্মৃতি মন্থন করছি,
হঠাৎ
তুমি এলে
টেবিলের সামনে এসে অপ্রস্তুত হয়ে গেলে,
তারপর সামলে নিয়ে বললে ,এখানে বসতে পারি !
বিমুঢ় হয়ে ভাবলাম ” এত টেবিল থাকতে এটা কেন ?”,
ভাবনা থামিয়ে বললাম” ও, শিওর বসুন প্লিজ”৷

পরনে লাল শাড়ি কপালে কালো টিপ,
হালকা লিপিস্টিক আর খোলা মেঘ কালো কেশ ,
মায়া হরিণীর মত চঞ্চল চোখ , মুখের টোল,
সুগঠিত বিন্যস্ত শরীরের প্রতিটি ভাজে পরিপুর্ণতা,
এক কাপ কফি এলো যেন তুমি সকলের চেনা
কফির কাপে মৃদু চুমুক দিয়ে দিয়ে রেখে দিলে,
গোলাপী ঠোঁটে লেগে থাকা কফিতেও,
অতি মায়াবী লাগছিল সেদিন ৷

শরীরে বেড়ে গিয়েছিল রক্তের প্রবাহ,
কোন এক অদৃশ্য কারণে
নিঃস্বরণ হচ্ছিল অতিরিক্ত হরমোনের ৷
টগবগিয়ে ছোটা রক্তের ঢেউ জানান দিয়েছিল,
আমি স্বাভাবিক নেই ৷

মনে হল অস্বস্তি বোধ করছো
এতক্ষনে অনুভব করলাম
অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছি তোমার পানে
যেন তৃষ্ণার্ত তপ্ত মরুভুমি শুষে নিচ্ছে সাগর ৷

টেবিল থেকে উঠে ক্যাশ কাউন্টারে এলাম
বাঁকা চোখে চাইতেই মহসিন ভাই আস্তে করে বলল
মেয়েটির নাম “বৃষ্টি”, এ পাড়ায় নতুন এসেছে
মেডিকেলে পড়ে , কফি পাগলী বলতে পারো
রোজ এই সময়ে আসে এক ঘন্টা বসে তোমার টেবিলে ৷
মনে মনে বললাম এতোদিন টেবিলের দখল নিলেও
আজ থেকে সে অস্তিত্বের দখলদার ৷

( বায়েজিদ হোসেন )

বিধিলিপ

বায়েজিদ হোসেন
যে প্রলয় চলিছে আজি
তা কি কেবলই স্রষ্টার মতি ?
নাকি, এ প্রলয় মর্তবাসীর
কৃতকর্মের আংশিক উপহার ৷
ঝরিছে বারি,পড়িছে বাজ
বহিছে বায়ু শনশন আওয়াজ
এ যেন নৃমুণ্ডমালিনীর উল্লাস নৃত্য
ইসরাফিলের সিঙ্গার ফুৎকার৷
এ কি কেবলই স্রষ্টার মতি ?
নাকি, ছায়াময় শান্ত সবুজ বনানীর বুকে
বনখেকোদের নিষ্ঠুর কুঠারাঘাতের ফল ?
গড়িয়া বৃষ্টির জল ,ফুলিয়া নদী বক্ষ
ভাঙিছে পাড়,কৃষাণের ক্ষেত,দরিদ্রের কুঠির
অসহায়ের ক্রন্দনে ভারী বাতাস
বাড়ছে সমাজে হাহাকার হতাশা ৷
এ কি কেবলই স্রষ্টার মতি ?
নাকি, নিরবধি বয়ে চলা নদীর সাথে
নদী খেকোদের অনাচারের ফল?
তপ্ত সূর্যের ক্ষমাহীন অনলবর্ষী তেজে
পুড়িছে শস্য ক্ষেত, নামিছে পানির স্তর
বাড়ছে হাহাকার কোটি বুভুক্ষের
আহা কতইনা নির্মম পরিহাস!
এ কি কেবলই স্রষ্টার মতি ?
নাকি, সুবিধাবাদীদের লালসার ফসল
অপরিকল্পিত নগরায়ণ,শিল্পায়নের ফসল?
স্রষ্টা স্রষ্টা করে যতই
নিজ অপকর্ম ঢাকো
পরের প্রজন্মকে ভুগতে হবে
কথাটি মনে রেখো ৷
বায়েজিদ হোসেন